বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
কলকাতার স্বাদ দিল্লিতে

সাবেক রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে যেভাবে এলো রসগোল্লা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম

সাবেক রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে যেভাবে এলো রসগোল্লা

ভারতের সাবেক রাজধানী কলকাতা থেকে বর্তমান রাজধানী দিল্লিতে ছানার তৈরি রসগোল্লার আগমন ও প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এবং চমকপ্রদ ইতিহাস। নানা ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এই শহরে বাঙালিরা যেমন স্থায়ী ঠিকানা গড়েছেন, তেমনি সাথে করে নিয়ে গেছেন নিজেদের আবহমান খাদ্যসংস্কৃতি। দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক বা সংক্ষেপে সিআর পার্ক আজ পরিণত হয়েছে এক টুকরো কলকাতায়।

দেশভাগের পর ভিটেমাটি হারানো উদ্বাস্তু বাঙালিদের জন্য গড়ে ওঠা এই এলাকাটি বর্তমানে দিল্লিতে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি তৈরি ও বিক্রির সবচেয়ে বড় কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। শহরের যেকোনো প্রান্তের মিষ্টিপ্রেমী মানুষ খাঁটি ছানার রসগোল্লা, ক্ষীরকদম কিংবা সন্দেশের স্বাদ নিতে ছুটে আসেন এখানকার দোকানগুলোতে। অন্নপূর্ণা সুইটসসহ স্থানীয় মিষ্টি বিক্রেতাদের দাবি, অবাঙালিদের তৈরি মিষ্টিতে ক্ষীর বা খোয়ার ব্যবহার বেশি হলেও খাঁটি ও তাজা ছানা দিয়ে তৈরি হওয়ায় কলকাতার আদি রসগোল্লার স্বাদ কেবল বাঙালি কারিগরদের হাতেই অটুট থাকে।

তবে দিল্লিতে বাঙালি রসগোল্লার আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা এই সিআর পার্কে হয়নি। লুটিয়েন্স দিল্লির সন্নিকটে অবস্থিত বেঙ্গলি সুইট হাউসের বর্তমান কর্ণধার শ্রীত গিরিশ আগরওয়াল দাবি করেন, তাদের পরিবারই দিল্লিতে প্রথম রসগোল্লা এনেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের দিকে তার ঠাকুরদা কাজের সূত্রে কলকাতায় এক বন্ধুর কাছে গিয়ে প্রথমবার এই মিষ্টির স্বাদ পান। সেই স্বাদ পছন্দ হওয়ায় তিনি কলকাতা থেকে দুজন পেশাদার ময়রাকে দিল্লিতে নিয়ে এসে রসগোল্লাসহ ছানার বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি শুরু করেন। যে এলাকায় দোকানটি গড়ে ওঠে, তা পূর্বে পুরান দিল্লির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী লালা বাঙালি মাল লোহিয়ার নামে বেঙ্গলি মার্কেট হিসেবে পরিচিতি পায়।

দিল্লির প্রাচীনতম রসগোল্লার এই দাবিটি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও খ্যাতনামা খাদ্য ইতিহাসবিদ পুস্পেশ পান্তের মতে, দিল্লিতে প্রথম বাঙালি মিষ্টির দাবিদার মূলত চাঁদনী চকের ঐতিহ্যবাহী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। তিনি জানান, ট্রলি শান্টিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় এক পা হারানো এক রেলওয়ে কর্মচারী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ট্রেনের বগির আদলে একটি রেস্তোরাঁ খুলে সেখানে বাঙালি মিষ্টি বিক্রি শুরু করেছিলেন।

পরবর্তীতে মালিকানা বদল হলেও চত্বরের পুরোনো ফোয়ারার কাছে ১৯২৯ সালে লাহোর থেকে দিল্লিতে আসা মুখার্জি পরিবারের প্রতিষ্ঠিত সেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারই ছিল শহরের প্রাচীনতম ঠিকানা। জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ঐতিহ্যবাহী সেই আদি দোকানটি সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেলেও রসগোল্লার আবেদন দিল্লি জুড়ে এখনো অমলিন রয়েছে।