সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিদের তালিকায় পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদিন এবং ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুর রহমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাজিবুল হাসান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আসামিরা ইতিপূর্বে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে মুক্ত ছিলেন। কারাগারে পাঠানো অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. নোবেল খান, মাহফুজুল হক উজ্জ্বল, মো. মাসুম আকন্দ, মো. সোহাগ মিয়া, মো. সাহাব উদ্দিন, মো. আল আমিন, মো. তাইজুল ইসলাম ও মো. খোকন মিয়াসহ মোট ২৫ জন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ মে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোরবানির পশুর হাটের আনুষ্ঠানিক ইজারা প্রদানের দিনে দরপত্র আহ্বানকে কেন্দ্র করে বিএনপি, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও সংঘাত সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ এনে আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ওমর শরীফ বাদী হয়ে গত ২৫ মে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীনসহ মোট ৩৩ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছিল।
উচ্চ আদালত থেকে নেওয়া আগাম জামিনের মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ায় বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট ২৫ জন আসামি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হাটের ডাক নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে তাদের দলের নিরপরাধ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।
এর আগেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে এই আদেশের তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজুকৃত মামলায় আসামিরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন এবং নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের পর বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন