সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় বাদীপক্ষ থেকে আদালতে আপসনামা দাখিলের পর অভিযুক্তদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে একই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এই আপসনামা দাখিল করেন মামলার বাদী ও মরিয়মের পিতা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
আপসনামায় তিনি উল্লেখ করেন, এজাহার দায়েরের পর বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম কিংবা তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের কোনো ধরনের প্ররোচনা বা তাদের পারস্পরিক রাগ-অভিমানের সম্পর্ক ছিল না। উভয় পক্ষ নিকটাত্মীয় হওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে তিনি স্বেচ্ছায় এই আপসনামায় স্বাক্ষর করেছেন। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকবে না এবং উভয় পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও শর্তে উল্লেখ করা হয়।
আদালতে আপসনামা দাখিল হলেও রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি ও ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, বাদীপক্ষের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক এই আপসনামা তৈরি করানো হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে আইনগতভাবে আপস মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বিপরীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান শুনানিতে দাবি করেন, বাদীর ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি এবং তিনি স্বেচ্ছায় এই আবেদন করেছেন।
ঘটনার পরপরই শোকাহত পিতা হিসেবে মাসুম বিল্লাহ আবেগের বশে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে সামগ্রিক আইনি দিক ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে অভিযুক্তরা ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতভাবে জড়িত নন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও বাদীর অনাপত্তি বক্তব্য গ্রহণ শেষে বিচারক মাকছুদা ইসলামের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করলেও প্রধান আসামি গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন।
এর আগে ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দফায় মোট আট দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ অবস্থায় মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধারের সময় ঘর থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুট জব্দ করা হয়। ঘটনার পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এবং ওই রাতেই নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন