বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

এমপি গাজী নজরুলের জামিন শুনানি আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

এমপি গাজী নজরুলের জামিন শুনানি আজ

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন মঞ্জুর হবে কি না, সে বিষয়ে আজ বুধবার সিদ্ধান্ত জানা যাবে। মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস সম্পন্ন হয়েছে এবং আসামির জামিনে তাদের কোনো আপত্তি নেই—আসামিপক্ষের এমন দাবির ওপর ভিত্তি করে নতুন করে এই জামিন আবেদন পেশ করা হয়েছে। এর আগে একই মামলায় আদালত গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। গত ৫ অক্টোবর নজরুলের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এই জামিন আবেদন দাখিল করেন। 

আদালত উভয়পক্ষের শুনানির জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন। আদালতের এই শুনানিতে আপসনামা এবং বাদীপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জামিনের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি। শুনানিতে আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান যুক্তি তুলে ধরে আদালতকে জানান, নিহত মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষের এই জামিন মঞ্জুরে কোনো প্রকার আপত্তি নেই। এই অবস্থায় নজরুলকে জামিনে মুক্তি দিলে মামলার তদন্ত কিংবা পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আইনি প্রক্রিয়ায় এর আগে একই ধরনের সমঝোতার কথা উল্লেখ করে আবেদন করা হলেও আদালত নজরুলের জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে মাকছুদাকে জামিন দেন। তবে নজরুলের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে।

তদন্ত চলাকালে নজরুলের আরও এক দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার আরেক অভিযুক্ত ওবায়দুর রহমানকেও ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার জামিন আবেদনের শুনানির দিনও আদালতের কার্যতালিকায় নির্ধারিত রয়েছে।