বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক দুই নেতা বসলে সব সমাধান সম্ভব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক দুই নেতা বসলে সব সমাধান সম্ভব

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বিদ্যমান সমস্যা ও অমীমাংসিত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের সরকারপ্রধান সরাসরি বৈঠকে বসলে এমন কোনো সংকট নেই যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে ঘিরে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি অভিমত দিয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাই কমিশনার এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষই সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী ও তাদের কূটনৈতিক দলকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। দুটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিরা সঠিক প্রক্রিয়ায় একপর্যায়ে একসঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।

দ্বিপক্ষীয় সংকট উত্তরণে শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেই গুরুত্ব দেখছেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে কোনো জটিলতা বা চ্যালেঞ্জ থাকবে না এমনটি ভাবা বাস্তবসম্মত নয়। তবে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা হলে যেকোনো অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান বের করা সম্ভব এবং সঠিক সময়ে প্রতিটি বিষয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। এর আগের দিন মঙ্গলবারও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। 

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়নি, ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ সবসময়ই উন্মুক্ত রয়েছে এবং সময় হলে সফর অনুষ্ঠিত হবে। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি প্রসঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার আশ্বস্ত করে জানান, সবকিছু ইতিবাচক ধারায় রয়েছে এবং এখানে সময় দিলে ইতিবাচক ফল আসবে, কোনো কিছু নেতিবাচক হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগ, পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং ক্রীড়া কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। 

পানি বণ্টন, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতের মতো যৌথ ক্ষেত্রগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক নির্ভরতা দুই প্রতিবেশীর জন্য ইতিবাচক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘিরে দুই দেশের সাধারণ মানুষের বিপুল কৌতূহল ও বিশেষ উৎসাহ কাজ করে যা পারস্পরিক গভীর নির্ভরতার বহিঃপ্রকাশ। ব্রিফিংকালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সম্ভাব্য ঢাকা সফর সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্ন সরাসরি এড়িয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক স্থানে ফোয়ারা নির্মাণ সংক্রান্ত খবর সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে।