সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:০০ এএম
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব অমীমাংসিত বিষয় যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ত্রিশ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকার পক্ষ থেকে একটি নতুন চুক্তির তাগিদ দেওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। নয়াদিল্লিতে এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আনুষ্ঠানিক এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর যৌথ নদী কমিশন রয়েছে এবং গঙ্গাসহ সব ধরনের নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত বিষয়গুলো এই কমিশনের কাঠামোর অংশ হিসেবেই পর্যালোচনা করা হবে। একই সাথে তিনি জানান যে গঙ্গার চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিদ্যমান ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি কেবল নবায়ন না করে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও নিশ্চয়তামূলক চুক্তি করার বিষয়ে ঢাকার সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘কল্লোলিনী এ রিভার ডায়ালগ ২০২৬’ শীর্ষক দুই দিনের আলোচনা সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ যাতে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে পারে, সেজন্য যথাযথ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা সংবলিত একটি নতুন চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। ভাটির দেশ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্ষা মৌসুমে উজানের অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ফলে বাংলাদেশে তীব্র বন্যা দেখা দেয় এবং কৃষি ও সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে সরকার। ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নিশ্চিত করতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি এই গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এদিকে নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি ও আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল গঠন করেছে এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হয়েছে বলে গত আগস্টে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর নিয়ে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন