সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে কোনো ধরনের তথ্য না জানিয়ে এবং ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো বিকল্প পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এই অভিযান পরিচালনা করায় এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং সুন্দর সমাধান বের করা পুরোপুরি সম্ভব ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই পথে না হেঁটে আকস্মিক পদক্ষেপ নিয়েছে। যেকোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের আগেই জীবিকার তাগিদে থাকা এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য দায়িত্ব ছিল।
জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে এড়িয়ে গিয়ে এমন পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। ঢাকা-১৫ আসনের এই সংসদ সদস্য জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এই উচ্ছেদ তৎপরতা শুরু করে। অভিযান চলাকালে ক্ষুব্ধ ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সরাসরি সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে করপোরেশনের সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রমণের শিকার হন।
একই সাথে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতাহাতি ও সংঘাত ঘটে। ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-১৫ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা এবং স্থানীয় ভোটাররা তাদের প্রত্যক্ষ ও মূল্যবান ভোটে তাকে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের সুবিধা কিংবা অসুবিধা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ করা হলে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সমন্বিত, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা যেত। সংঘাত ও বলপ্রয়োগের পরিবর্তে এমন একটি টেকসই ব্যবস্থা প্রণয়ন করা জরুরি যাতে করে একদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা নিঃস্ব না হন এবং অন্যদিকে ফুটপাত দিয়ে সাধারণ মানুষের পথচলাও সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ থাকে।
চাঁদাবাজির দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাসের পর মাস ধরে একটি অসাধু চক্র এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে সেখানে দোকান বসানোর সুযোগ করে দিয়ে আসছে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা বার্ষিক ভিত্তিতে পরিচালিত এই বেআইনি চাঁদাবাজির আর্থিক ক্ষতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের কাঁধেই বর্তায়। ফলে বিচ্ছিন্ন ও আকস্মিক অভিযান না চালিয়ে সমন্বিত, টেকসই ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো সরকারি উদ্যোগে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অংশীদার করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে সবাইকে আপাতত সম্পূর্ণ শান্ত ও সংযত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে সমস্যা রয়েছে সেখানে নিরপেক্ষ, বাস্তবমুখী ও মানবিক সমাধানের পথও রয়েছে; কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না, তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনোভাবেই পুনর্বাসন বা আশ্রয় দেওয়া চলবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন