মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ভারত-চীন বিমানপথ

পাকিস্তানের আকাশপথ নিষেধাজ্ঞায় চীনের সঙ্গে ভারতের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

পাকিস্তানের আকাশপথ নিষেধাজ্ঞায় চীনের সঙ্গে ভারতের আলোচনা

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে বিকল্প উড্ডয়ন পথ নির্ধারণে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে ভারতীয় বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে দুই দেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দেনদরবার অব্যাহত রয়েছে। চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হোতানকে ট্রানজিট পয়েন্ট ধরে এই বিকল্প বিমানপথ নির্ধারণের বিষয়ে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই আলোচনা চলছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শীর্ষ পর্যায়ের এই সফরের পর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার পটভূমিতে আকাশসীমা সংক্রান্ত এই উদ্যোগটি বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে লাদাখ সীমান্তে সামরিক উত্তেজনার কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর বন্ধ থাকার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর গুয়াংজু থেকে নয়াদিল্লি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ভারতীয় বেসরকারি এয়ারলাইনস ইন্ডিগো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু করে। সংস্থাটি প্রথমে কলকাতা থেকে গুয়াংজু এবং পরবর্তী ধাপে দিল্লি থেকে গুয়াংজু রুটে নিয়মিত বিমান চালু করে। পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লি থেকে সাংহাই সরাসরি উড্ডয়ন শুরু করার মাধ্যমে প্রায় ছয় বছর পর চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ পুনর্স্থাপন করে।

দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল কিছুটা গতি পেলেও ভারতের জন্য মূল সংকট তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে ভারতীয় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে পাকিস্তান সরকার। অতি সম্প্রতি এই আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বৃদ্ধি করেছে ইসলামাবাদ।

ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যকার দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনার ফলে পশ্চিমগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য বিকল্প পথ খুঁজে নেওয়া ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। চীনের শিনজিয়াং হয়ে নতুন আন্তর্জাতিক পথ চালু করা সম্ভব হলে পাকিস্তানি আকাশসীমা এড়িয়ে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলো দীর্ঘ দূরত্বের রুটে উড্ডয়ন অব্যাহত রাখতে পারবে। তবে বেইজিংয়ের সঙ্গে এই দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।