সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ভারতে মসজিদ ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ভারতে মসজিদ ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদটির একাংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

বিক্ষুব্ধ জনতার দিক থেকেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনাস্থলে চরম অচলাবস্থা তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ দাঙ্গা দমন বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফ মোতায়েন করা হয়। এই সড়ক সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদ পরিকল্পনা ঘিরে স্থানীয় পর্যায় থেকে আদালত পর্যন্ত আইনি বিরোধও চলছে। এর আগে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশনের দেওয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনগুলো খারিজ করে দিয়েছিল ইন্দোরের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। 

সেই সময় আসন্ন সিংহস্থ মেলার ধর্মীয় জনসমাগমে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনস্বার্থের যুক্তি বিবেচনায় নিয়েছিল আদালত। তবে এই উচ্ছেদ ও ভাঙার প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে সোমবারও ইন্দোর হাইকোর্টে নতুন করে শুনানির সূচি নির্ধারিত ছিল। প্রশাসনের এমন তৎপরতার তীব্র বিরোধিতা করেছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি। তিনি রাজ্য সরকারকে স্থানীয় মানুষের গভীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, সড়ক প্রশস্ত করার অছিলায় প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা উচিত ছিল। বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে মসজিদ ঘিরে দফায় দফায় প্রশাসনিক অভিযান চালানোর মাধ্যমে আসলে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন।

ইমরান প্রতাপগড়ি আরও বলেন, উজ্জয়নের অসংখ্য তরুণ ও সচেতন নাগরিক এই ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি মসজিদের দিক থেকে না নিয়ে বিকল্প অন্য কোনো পাশ থেকে অধিগ্রহণ করার স্পষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।