সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
রোগাক্রান্ত হওয়ার পর তা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আগেভাগে রোগ প্রতিরোধ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সচেতনতা তৈরি ও যথাযথ ব্যবস্থা নিলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় টিকাদান জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। শহরের মানুষের মধ্যে রোগটি নিয়ে কিছুটা সচেতনতা থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে তা কম। এর ফলে গ্রামাঞ্চলেই আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটে। তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আগের মতো জোরদার করার সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনগণের কল্যাণ ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান। মানুষ শুধু খাদ্যনিরাপত্তাই নয়, খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত প্রাণীটি রোগমুক্ত কি না সে বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মানবস্বাস্থ্য সরাসরি জড়িত। এ কারণে প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যকে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই খাতের সার্বিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং খামারিদের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। প্রান্তিক স্তরে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম ও সেমিনারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান এবং বক্তব্য রাখেন পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক ডা. মো. আ. মান্নান মিয়া এবং পথ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদি হাসান ভূইয়া। প্রবন্ধে দেশের সামগ্রিক জলাতঙ্ক পরিস্থিতি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা, কুকুরের সার্বিক টিকাদান কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে রোগটি পুরোপুরি নির্মূলের সরকারি লক্ষ্য ও পদক্ষেপ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
দিবসটির এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয় “Stronger Together: একসাথে, আরও শক্তিশালী- জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি”। এর আগে সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, প্রাণী চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন