সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল ফ্লাইট চলাচল শুরু

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল ফ্লাইট চলাচল শুরু

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নবনির্মিত আধুনিক টার্মিনাল ভবন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটা ৫০ মিনিটে প্রায় ৭০ জন যাত্রী নিয়ে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নতুন এই টার্মিনাল ব্যবহার করে প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময়সূচি আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত থাকলেও যাত্রীদের আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে সোমবার থেকেই অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইটের কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মোর্তোজা হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নতুন অবকাঠামো চালুর বিষয়ে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও এয়ারলাইনসগুলোকে গত বৃহস্পতিবার লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুসারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা তাদের যাত্রী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুরনো ভবন থেকে নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর সম্পন্ন করে।

নতুন এই আধুনিক ভবনে সর্বমোট ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে কাউন্টার ভাগাভাগির নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা যৌথভাবে চেক-ইন কাউন্টার পরিচালনা করবে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি এয়ারলাইনসের জন্য স্বতন্ত্র কাউন্টার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা ও ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপের কথা বিবেচনা করে সরকার এই আধুনিক টার্মিনাল থেকে আগাম ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বমানের নাগরিক সুবিধা সংবলিত এই টার্মিনাল চালু হওয়া যাত্রী ও বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল।

দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন নগরীকে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে মেগা প্রকল্পের আওতায় এই বিমানবন্দরটির আধুনিকায়ন চলছে। প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে রানওয়ের দৈর্ঘ্য এক হাজার ৭০০ ফুট বাড়িয়ে নেওয়া। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরটির রানওয়ের বর্তমান দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে মোট ১০ হাজার ৭০০ ফুটে, যা রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের চেয়েও বেশি দীর্ঘ। ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট এক হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এই ঐতিহাসিক আধুনিকায়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

সাগরঘেঁষা এই সুবিশাল রানওয়ে পুরোদমে চালু হলে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ও ড্যাশ ৮-কিউ৪০০-এর মতো ভারী ও প্রশস্ত কাঠামোর আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ এখানে অবাধে ওঠানামা করতে পারবে। গত বুধবার সরেজমিনে নতুন টার্মিনালের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি নিশ্চিত করেন যে অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইনসগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ করে নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরুর এই সফল অভিজ্ঞতার পথ ধরে আগামী অক্টোবর মাসেই এই বিমানবন্দর থেকে বহুল প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হবে।