সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে চাষ করে কৃষকদের ভাগ্যবদলের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আলগার টেক ও দক্ষিণ ঘাগরা এলাকায় উন্নত জাতের পেঁপে চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখা গেছে। আইল্যান্ড এগ্রো ফার্মের উদ্যোগে নেওয়া এই পেঁপে আবাদ এখন স্থানীয় চাষিদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
উৎপাদিত পেঁপে বাজারজাত করে সাধারণ জাতের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি মুনাফা পাওয়া সম্ভব। গাজীপুরের কাপাসিয়ার শিক্ষক ও উদ্যোক্তা মো. নাজমুল আলম সোহাগ জানান, তারা ছয় বন্ধু মিলে বিগত তিন বছর ধরে এই উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ করছেন। চলতি মৌসুমে তাদের বাগানে প্রায় ৮০০ গাছ লাগানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবাদে তাদের প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হওয়ায় বাগান থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা মোস্তাহিন বিল্লাহ গোলজার জানান, ২০১৮ সালে তারা কয়েকজন শিক্ষক ও চাকরিজীবী মিলে ১৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আবাদ শুরু করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও করোনার ধাক্কা কাটিয়ে এবার পুরো বাগানে প্রচুর পেঁপে ধরেছে। তাদের বাগানের ৮০০ গাছ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাগানে প্রতি গাছে গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত পেঁপে উৎপাদন হয়।
কৃষি গবেষকরা জানান, সাধারণ জাতের তুলনায় এটি প্রায় এক মাস আগেই ফলন দিতে সক্ষম। রোপণের মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে গাছে ফল আসে এবং চার থেকে সাড়ে চার মাসের মাথায় তা সংগ্রহের উপযোগী হয়। প্রতিটি পেঁপের ওজন গড়ে দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত পৌঁছায়। এই জাতের অন্যতম সুবিধা হলো ফল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই বাজারজাত করা যায়।
একটি পিটে তিনটি করে চারা লাগিয়ে পরবর্তীতে পুরুষ গাছ কেটে ফেলতে হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, চারা রোপণের সময় সাত ফুট দূরত্ব বজায় রাখা দরকার। জমিতে এক ফুট গভীর গর্ত করে জৈব সার, গোবর, ইউরিয়া ও পটাশ ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হয়। পেঁপে বীজের আবরণ মোটা হওয়ায় তা পানিতে ৭২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম দ্রুত ও স্বাস্থ্যবান হয়।
ওমান ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পেঁপে বীজ রপ্তানি হচ্ছে এবং শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানেও এর উল্লেখযোগ্য চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন