সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বৈদেশিক সহায়তার কাঙ্ক্ষিত অর্থছাড় মিলছে না। জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাসে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণের অর্থ দেশে এসেছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ আগের ঋণের দায় মেটাতে পরিশোধ করতে হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিতেও ভাটা পড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জুলাই ও আগস্ট প্রান্তিকে দেশে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
বিপরীতে একই সময়ে আগের ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সরকারকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই মাসে ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণের অর্থছাড় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বিগত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার অর্থছাড় করেছিল আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা। বিপরীতে ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে ঋণ পরিশোধের অঙ্ক ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার।
চলতি অর্থবছরের দুই মাসে পরিশোধিত ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলারের মধ্যে আসল বাবদ গেছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে আসল পরিশোধ ছিল ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং সুদের পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থছাড় কমে যাওয়া এবং পরিশোধের চাপ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিগত সরকারের মেয়াদে অপরিকল্পিতভাবে বিদেশি ঋণের অর্থে বহু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল যার অনেকগুলোরই বাস্তব উপযোগিতা ছিল না।
পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের গ্রেস পিরিয়ড অর্থাৎ রেয়াতকাল শেষ হয়ে আসায় সুদ ও আসলের দেনা একসাথে পরিশোধের সময় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকার কারণেও উন্নয়ন সহযোগীদের দিক থেকে সহায়তা ছাড়ের গতি শ্লথ ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সরকারের সাথে তাদের যোগাযোগ বাড়ছে। পরিশোধের চাপ তীব্র হলেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এখনও তলানিতে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ২৪ কোটি তিন লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।
আটটি প্রধান দেশ ও সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থছাড়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। বহুপাক্ষিক এই সংস্থাটি ছাড় করেছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে সাত কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপান অর্থছাড় করেছে তিন কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। রাশিয়া ছাড় করেছে দুই কোটি ছয় লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক বা এআইআইবি এবং চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থছাড় করা হয়নি। অন্যদিকে বড় উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কেবল জাপানের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে। চীন, রাশিয়া কিংবা বিশ্বব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কাছ থেকে এখনও কোনো নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি আসেনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন