সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

টানা প্রায় দুই বছর ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার জনতুষ্টিবাদী প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। একই সাথে তিনি আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগাম সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের লিখিত পদত্যাগপত্র পাঠ করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। লিখিত বিবৃতিতে তিনি জানান, সার্বিয়ার প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে ভুচিচ অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তি এবং দেশের ভেতরের কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নির্বাচনের রাতে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তার এই পদত্যাগের ফলে বলকান অঞ্চলের দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও সুগম হলো। ভুচিচের পদত্যাগের পর দেশটির সংসদের স্পিকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত ব্রনাবিচ এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি কার্যসূচি অনুসারে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সাংবিধানিক নিয়মানুযায়ী আলেকজান্ডার ভুচিচের দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছরের মে মাসে। দেশটির সংবিধানে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সুযোগ না থাকায় তিনি দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টিকে (এসএনএস) নির্বাচনে নেতৃত্ব দিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছেন। দল জয়ী হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার পরিচালনার সুযোগ পাবেন। সার্বিয়ায় সাংবিধানিকভাবে প্রেসিডেন্টের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা অনেক বেশি।

বর্তমানে ক্ষমতাসীন এসএনএস ছাত্র-নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন প্রাণ হারান। সেই মর্মান্তিক ঘটনার জবাবদিহি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুরু করা প্রতিরোধ কর্মসূচি পরবর্তীতে তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

ব্যাপক গণঅসন্তোষের মধ্যেও ভুচিচের দল ক্ষমতা ধরে রাখতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি সরকারপন্থি গণমাধ্যমে সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেশজুড়ে সফর করেন এবং নতুন সড়ক উদ্বোধন, আর্থিক অনুদান প্রদান ও ওষুধের দাম কমানোর মতো জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। এমনকি সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েও প্রচার চালিয়েছেন তিনি।

এদিকে ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভুচিচ ও তার দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধ চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশি বলপ্রয়োগ ও আটকের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ থাকলেও ভুচিচ কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

ছাত্র-সমর্থিত নির্বাচনী তালিকায় শিক্ষক, অধ্যাপক, ক্রীড়াবিদ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির অবসানের দাবিতে তারা সাইকেল নিয়ে দেশব্যাপী প্রচার চালাচ্ছেন। জনমত জরিপে ছাত্র আন্দোলন ও ভুচিচের দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে, যেখানে সোশ্যালিস্ট পার্টি ও ইউরোপপন্থী বিরোধী জোটও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।