সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে পরিস্থিতি শান্ত হবে না: নাহিদ ইসলাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে পরিস্থিতি শান্ত হবে না: নাহিদ ইসলাম

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদে বহাল রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কখনোই স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি রাজধানীতে অবস্থিত রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনাকে ক্ষমতাসীন বিএনপির ধারাবাহিক চাঁদাবাজির একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদে বহাল রেখে জননিরাপত্তা রক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক তৎপরতার সমালোচনা করে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ পুশইনের মতো গুরুতর মানবিক ও জাতীয় ইস্যুগুলো জাতিসংঘে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পাশাপাশি জনগণের রাষ্ট্র সংস্কারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং অতীতের গণহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয়গুলো তিনি পরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে গেছেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে বহু যোগ্য ও মেধাবী চাকরিপ্রার্থীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়োগকে সম্পূর্ণরূপে দলীয়করণ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট অপরাধের তথ্য-প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র ভেরিফিকেশনের বাহানায় কাউকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য হবে না।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সময়ক্ষেপণ করে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কারকে পিছিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল অবলম্বন করেছে বিএনপি। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন হয় না এমন কোনো লোকদেখানো প্রক্রিয়া এনসিপি মেনে নেবে না। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করলে দলীয় ও জোটগতভাবে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারের নীতির যৌক্তিক সমালোচনা করায় এনসিপিকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।

পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশকেই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করবে, নাকি কোনো বিশেষ দলের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকারের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি একের পর এক অসত্য ও অন্তঃসারশূন্য প্রমাণিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করার নীল নকশা সাজানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব ষড়যন্ত্রের মাঝেও স্থানীয় নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে এনসিপির তরুণ নেতৃত্ব জনগণের রায় নিয়ে বিজয়ী হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।