রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারত যুদ্ধ চায় না ভূখণ্ড দখলেরও ইচ্ছে নেই: রাজনাথ সিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ভারত যুদ্ধ চায় না ভূখণ্ড দখলেরও ইচ্ছে নেই: রাজনাথ সিং

ছবি: সংগৃহীত

ভারত কোনো ধরনের যুদ্ধ চায় না এবং বিশ্বের অন্য কোনো স্বাধীন দেশের ভূখণ্ড দখলেরও কোনো ইচ্ছা দেশটির নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তবে নয়া দিল্লির এই শান্তিকামী মনোভাবকে কোনো অবস্থাতেই জাতীয় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা না করার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। রবিবার ভারতীয় একটি বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিরক্ষা সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত বিন্দুমাত্র আপস করবে না। 

প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্র সীমান্তপারের নাশকতা ও সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া অব্যাহত রাখলে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে তার দেশ সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা সংলাপে বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ভারতের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন যে ভারত সর্বদাই কার্যকর শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং কারও সঙ্গে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়াতে চায় না। 

তিনি বলেন, ভারত অপর কোনো রাষ্ট্রের সীমানা দখল করতে চায় না এবং কাউকে অহেতুক সামরিক হুমকিও প্রদর্শন করতে আগ্রহী নয়। তবে একই সাথে আন্তর্জাতিক মহলের মনে রাখা উচিত যে নীরবতা এবং দুর্বলতার মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। সীমান্তপারের বৈরী তৎপরতা বন্ধ না হলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত সর্বান্তঃকরণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চায়, কিন্তু সামগ্রিক জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে কখনোই কোনো ছাড় দেবে না। 

যতদিন পর্যন্ত প্রতিবেশী ভূখণ্ড থেকে নাশকতা ও অপতৎপরতা ছড়ানো হবে, ততদিন পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নিতে ভারত প্রস্তুত থাকবে। এই কঠোর বার্তা প্রতিবেশী কর্তৃপক্ষ এবং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে রাজনাথ সিং মূলত পাকিস্তানের প্রতিই সরাসরি এই কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে দেশটির অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘটিত বড় ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতায় জড়িত একাধিক চরমপন্থি নেটওয়ার্ককে সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। 

নয়া দিল্লি দাবি করে আসছে যে সীমান্তঘেঁষা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ধারাবাহিক অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাম পর্যটন এলাকায় এক সশস্ত্র হামলায় এক নেপালি নাগরিকসহ মোট ২৬ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। উক্ত রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্তবর্তী একাধিক অঞ্চলে আক্রমণ চালানো হয়, যার ফলে উভয় পক্ষের আকাশসীমায় বিমান সংঘাত ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনামে উঠে আসে।

আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন রাজনাথ সিং। তিনি উল্লেখ করেন যে ভারত সবসময় গঠনমূলক কূটনৈতিক আলোচনায় গভীরভাবে বিশ্বাস করে। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি সীমান্তের ওপার থেকে অব্যাহতভাবে নাশকতা ছড়াতে থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাবে। ভারত পারস্পরিক সহযোগিতা কামনা করে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিনিময়ে নয়।