রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নারীদের সুবিধার্থে নামছে আরও ১০০ পিংক বাস

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

নারীদের সুবিধার্থে নামছে আরও ১০০ পিংক বাস

নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রুটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও ১০০টি নতুন বিশেষায়িত পিংক বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে নির্ধারিত ১৩টি রুটে চলাচলকারী মাত্র ১৪টি পিংক বাসের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় এই বহর সম্প্রসারণের জরুরি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে পিংক বাসের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান, সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলাল, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগদান করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। 

বৈঠকের সূচনায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয় এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সকল সদস্যের সাথে মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয়। জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করে সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কার্যকর রূপরেখা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার চলমান সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। 

এ সময় কর্ণফুলী টানেলের সার্ভিস এলাকায় ৭২ একর বিশাল জমির ওপর নির্মিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রিসোর্টের বর্তমান বাস্তব অবস্থা সরেজমিন পর্যবেক্ষণের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে পরিদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর সুপারিশ করা হয় মন্ত্রণালয়ের প্রতি। নারীদের যাতায়াত সংকট নিরসনের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে একাধিক সুনির্দিষ্ট প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এতে জানানো হয় যে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহাসড়কে বিদ্যমান বিপজ্জনক বাঁক ও মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোকে সোজা ও প্রশস্ত করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ভবিষ্যতে যে সকল নতুন সড়ক ও যোগাযোগ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, সেগুলোর নকশা আঁকাবাঁকা না করে সম্পূর্ণ স্ট্রেইট লাইন বা সোজা করার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, সেতু বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।