সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
দেশের ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে এবং বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি সম্প্রসারণে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে এই সুবিধার বিদ্যমান পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে এবার নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য সাধারণ মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীদেরও প্রণোদনা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়।
জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে নিষ্পন্ন হওয়া লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে এই আর্থিক প্রণোদনা সরাসরি ছাড় করা হবে। নতুন সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বাংলা কিউআরভিত্তিক দুই হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি সফল লেনদেনে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এই হিসাবায়ন সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাসিক ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে এই প্রণোদনার অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে কার্যকর থাকা সকল তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমগুলোর জন্য এই নতুন নীতিমালা সরাসরি প্রযোজ্য হবে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে পূর্বে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোর পাশাপাশি বৈধ ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এখন থেকে এই সুবিধা ভোগ করবে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে বাংলা কিউআর লেনদেনে এই বিশেষ প্রণোদনা সুবিধার প্রথম সূচনা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে সেই আর্থিক প্রণোদনার সুযোগটি কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের বিক্রেতা এবং প্রাথমিক সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে সেই ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক পরিধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেল, যার ফলে শহরের মাঝারি ও বড় বাণিজ্যিক আউটলেটগুলোও বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহিত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে যে নতুন প্রজ্ঞাপনে প্রতিস্থাপিত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত শর্তাবলী ছাড়া গত আগস্টের মূল নির্দেশনার অন্যান্য সকল শর্ত ও ধারা অপরিবর্তিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২-এর পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খানের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরে জারি করা এই বিশেষ সার্কুলারটি কার্যকরের জন্য দেশের সকল ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন