সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নামফলকে নিজের নাম দেখে ভবন উদ্বোধন করলেন না হাসনাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

নামফলকে নিজের নাম দেখে ভবন উদ্বোধন করলেন না হাসনাত

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে নামফলকে নিজের নাম খোদাই করা দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে ভবনটির কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। শনিবার বিকেলে নিজের সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার দেবীদ্বার উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। 

ওই দিন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এই সংসদ সদস্য। ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনটি চালুর আগমুহূর্তেই নামফলকের ওপর টানানো পর্দা সরানো হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অতিথি হাসনাত আবদুল্লাহ ভবনের উদ্বোধনের জন্য আনুষ্ঠানিক ফিতা কাটার ঠিক পূর্বমুহূর্তে নামফলকের পর্দা উন্মোচন করামাত্র সেখানে বড় অক্ষরে নিজের নাম খোদাই করা দেখতে পান। 

এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেই তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত স্কুল পরিচালনা পর্ষদ ও আয়োজকদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে সাধারণ জনগণের ট্যাক্স ও করের টাকায় নির্মিত কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় ব্যক্তিবিশেষের নাম দিয়ে ফলক বসানোর চর্চাকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। রাজনৈতিক নেতাদের সস্তা আত্মপ্রচার ও ব্যক্তিপূজার মানসিকতা চিরতরে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানান তিনি।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন যে অতীতে প্রচলিত পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে যেভাবে দলীয় নেতাদের তোষণ, চাটুকারিতা ও ব্যক্তিপূজা চালানো হতো, বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশে সেই জঘন্য আত্মপ্রচারের ধারাবাহিকতা তিনি দেখতে চান না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে সমগ্র উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয় দেশের মেহনতি জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে। ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনার নামফলকে কোনো ব্যক্তিবিশেষের নামের আত্মম্ভরিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে দেশের নাম অথবা সেই নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ঐতিহাসিক তথ্য লিপিবদ্ধ থাকা উচিত।

ভবিষ্যতে নিজের নির্বাচনী এলাকার কোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলকে নিজের নাম ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। এই স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার পর তিনি নতুন একাডেমিক ভবনটির কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না করেই সরাসরি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। সংসদ সদস্যের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ জানান, সংসদ সদস্যের কঠোর আপত্তির প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিতর্কিত নামফলকটি অপসারিত করে নতুন তথ্যফলক স্থাপন করা হবে।

ঘটনাটির একটি চিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নাগরিকদের একটি বড় অংশ এটিকে বাংলাদেশের প্রচলিত তোষণ ও অন্ধ ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এটিকে ভবিষ্যৎ রাজনীতির মাঠ সুসংহত করতে এক ধরনের কৌশলগত বার্তা দেওয়ার রাজনৈতিক প্রয়াস হিসেবেও মূল্যায়ন করেছেন।