সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
তথ্যের অবাধ প্রবাহের পাশাপাশি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে এবং অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে তথ্য কমিশনের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয় `ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, অপতথ্যরোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা`।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে তথ্যের কোনো ঘাটতি নেই, তবে সঠিক বিবরণের পাশাপাশি ভুয়া ও অসত্য তথ্যের ব্যাপক বিস্তার এখন অন্যতম বড় সংকট হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য জানার অধিকার সবার রয়েছে, তবে সেই তথ্য অবশ্যই সঠিক হতে হবে। ভুল ও অসত্য তথ্য শুধু ব্যক্তির ক্ষতি করে না; বরং পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণে তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী, রাজনীতিবিদসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার, লাইক বা মন্তব্য করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সময় অসচেতনভাবে মানুষ যাচাই ছাড়াই তথ্য প্রচার করে ফেলেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রতি সঠিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদেরও তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলেন।
অপতথ্যের সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এর ফলে নারী ও শিশুসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং সম্পর্কের বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের ছবি বা পরিচয় বিকৃত করার মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করার প্রবণতা বাড়ছে বলে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে সমাজকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে। এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ এবং সতর্কতা অবলম্বন না করলে ভুল তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই লাগামহীন অপব্যবহার সমগ্র বিশ্বকে গভীর হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বমঞ্চে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের গণমাধ্যম অধ্যয়ন ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান।
অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত হন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ বজায় রাখা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে তথ্য কমিশনের সচিব মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন