সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
নাগরিকেরা দায়িত্বশীল আচরণ না করলে সরকারের একার পক্ষে কখনোই দেশকে উন্নত বা কার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর আওতায় একটি খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ প্রতিটি নাগরিকের যৌথ সম্পদ এবং দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও দুর্গাপুর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত। দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের শতাধিক কর্মী অংশ নেন। কর্মসূচি শুরুর আগে একটি মানবিক ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের শপথবাক্য পাঠ করান ডেপুটি স্পিকার। শপথ অনুষ্ঠান শেষে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম, লাইফ জ্যাকেট ও দস্তানা পরিধান করে সরাসরি খালে নেমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কচুরিপানা ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, বরং প্রতিটি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসনেই পরিচ্ছন্নতাকে অপরিহার্য ও সর্বজনীন দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কেবল নাগরিক অসচেতনতার কারণেই সমাজ এই জরুরি দায়িত্ব পালন থেকে প্রায়ই পিছিয়ে থাকে বলে তিনি খেদ প্রকাশ করেন। স্বেচ্ছাসেবীদের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, দুর্গাপুরের যে খালটি পরিষ্কার করা হচ্ছে তা গত প্রায় দুই দশক ধরে চরম অবহেলিত ও ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে ছিল।
তিনি এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন এবং বিডি ক্লিনের সব স্বেচ্ছাসেবীর প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দেশব্যাপী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি আবর্জনাজনিত সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই স্বাস্থ্যঝুঁকির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানের এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্যই পরিচালিত হচ্ছে, যাতে আগামী দিনের শিশুরা একটি রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, একটি কার্যকর ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে শপথ পাঠ করা হয়েছে, তা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্তরে ধারণ করতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া আবশ্যক। অতীতের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত ইতিবাচক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ দেশ উপহার দেওয়া সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন