সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন সামুদ্রিক এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে শেষ পর্যন্ত কতটা ঘনীভূত হবে এবং নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, নতুন এই সিস্টেমটির প্রভাবে মূলত অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাসে সাগরে নতুন এই গতিবিধির বার্তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর মৌসুমি বায়ু বর্তমানে কম সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই লঘুচাপটি সরাসরি সাগরে রূপ নিতে পারে।
পরবর্তী সময়ে এটি ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ কিংবা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে এটি শেষ পর্যন্ত কোনো ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সিস্টেমটি সাগরে জন্ম নেওয়ার পর এর সুনির্দিষ্ট গতিপথ ও শক্তি বৃদ্ধির ধরনের ওপর। সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির ঐতিহাসিক প্রবণতা থাকলেও বর্তমান প্রাথমিক পর্যায়ে এই নতুন সিস্টেমটিকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করার কোনো বৈজ্ঞানিক সুযোগ নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক আবহাওয়া অনেকটাই শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়তে পারে।
এর আগে আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়া একেবারে বিরল কোনো ঘটনা নয়। গড়ে প্রতি সাত থেকে আট বছর পর পর অন্তত একবার সেপ্টেম্বর মাসেও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে দেখা যায়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে মোট ছয়বার ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির ঐতিহাসিক রেকর্ড নথিবদ্ধ রয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিবেচনায় বঙ্গোপসাগরে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেই ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ ও সক্রিয়তা ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এদিকে রবিবার মানিকগঞ্জের আরিচায় পরিমাপ করা মাত্র এক মিলিমিটার বৃষ্টি ছাড়া দেশের অন্য কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা যায়নি।
ফলে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে দিনভর প্রখর রোদ ও বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়েছে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা যৌথভাবে ঢাকা, চাঁদপুর, ফেনী ও খুলনা অঞ্চলে পরিমাপ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেশ এখনই পুরোপুরি বৃষ্টিহীন হয়ে পড়বে না। রবিবার সন্ধ্যা থেকে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর দু-এক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সেই সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বা উপকূলীয় অঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। একইভাবে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু স্থানে বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী বুধবার ও বৃহস্পতিবারও দেশের একাধিক বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। অর্থাৎ আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টি একেবারে থেমে যাওয়ার বদলে বিচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে এবং বৃষ্টিহীন মধ্যবর্তী সময়ে আবহাওয়া কিছুটা উত্তপ্ত ও ভ্যাপসা থাকতে পারে। তাপমাত্রার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে সোমবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা উভয়ই সামান্য কমতে পারে। তবে বুধবার দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সার্বিকভাবে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার পরই এর ভৌগোলিক অবস্থান, চূড়ান্ত অভিমুখ ও শক্তির প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এটিকে কোনো ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ হিসেবে না দেখে একটি সম্ভাব্য লঘুচাপ এবং তার প্রভাবে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক রূপান্তর হিসেবে পর্যবেক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন