সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত একটি চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় সামরিক ডুবো ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। তবে তেহরানের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বিত এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি জলসীমায় আটক করা হয়।
তাদের দাবি অনুযায়ী, আটক যানটি মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত রেমাস ৬০০ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। জব্দকৃত ড্রোনটি থেকে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য উদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সেটিকে দেশটির কারিগরি বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেমাস ৬০০ গোত্রের স্বয়ংক্রিয় যান সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীসহ সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ব্যবহার করে থাকে। এসব ডুবোযানে সংবেদনশীল ক্যামেরা, আধুনিক সেন্সর এবং উন্নত সোনার নজরদারি প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ মিটার গভীরতায় পরিচালিত এই জলযানগুলো প্রধানত সমুদ্রতল পর্যবেক্ষণ, নিখুঁত মানচিত্র তৈরি, পানির নিচে মাইন শনাক্তকরণ এবং তা নিষ্ক্রিয় করার কাজে মোতায়েন করা হয়।
ইরানের এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকম। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনী অঞ্চলের সব সক্রিয় নৌযানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো ড্রোন নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক জলযান আটকের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এটি দ্বিতীয় দাবি।
এর আগে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে অ্যান্ডুরিল কোম্পানির তৈরি ডাইভ-এলডি মডেলের আরেকটি স্বয়ংক্রিয় মার্কিন ড্রোন আটকের দাবি করেছিল বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তবে পূর্বের সেই দাবি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি। এদিকে চলমান উত্তেজনা নিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, সামরিক সংঘাত এখনো থেমে যায়নি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে একটি অতি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন