সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাদিক কায়েমকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রফিকুল ইসলাম মাদানীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

সাদিক কায়েমকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রফিকুল ইসলাম মাদানীর

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। তার দাবি, রাজনৈতিক ক্ষমতার আকর্ষণে ও পশ্চিমা বিশ্বকে তুষ্ট করার লক্ষ্যে কিছু ইসলামপন্থী ব্যক্তিত্ব নিজেদের মূল ধর্মীয় আদর্শ বিসর্জন দিচ্ছেন।

নিজের পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী উল্লেখ করেন যে, তিনি প্রথমে এ বিষয়ে আর কিছু না লেখার কথা ভেবেছিলেন, কারণ তাদের পক্ষ থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। তার দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে পশ্চিমা শক্তির আস্থা অর্জনের অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ঘটনার পর কিছু অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা ও ভিডিও নির্মাতাকে নিয়োগ করে সাদিক কায়েমের বক্তব্যের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসব নির্মাতা যুক্তি দিচ্ছেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো মাদ্রাসা নয় এবং সেখানে সবাইকে পর্দা মেনে চলতে বাধ্য করা যায় না। এমন বিতর্ককে তিনি অপ্রাসঙ্গিক ও ভিত্তিহীন হিসেবে বর্ণনা করেন।

মাদানী স্পষ্ট করেন যে বিরোধিতাকারীদের মূল আপত্তি মেয়েদের খেলাধুলা করা বা ঢালাওভাবে পর্দা চাপিয়ে দেওয়ার ওপর নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নিয়মিত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং ছাত্রীরা তাতে অংশ নেন, তা সবারই জানা। কিন্তু তার মূল প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইসলামি ভাবধারার সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে থেকে খোলামেলা পোশাক পরিহিত ছাত্রীদের ক্রীড়া আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত হওয়া, তাদের সামনে বক্তব্য রাখা এবং প্রধান আয়োজকের প্রশংসায় করতালি দিতে আহ্বান জানানো নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। 

ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য সমর্থন ও উৎসাহ দেওয়ার বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় আলেম বা ফতোয়া বোর্ডের কাছে প্রশ্ন তোলা হলে কী ধরনের ধর্মীয় অভিমত আসতে পারে, তা নিয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন। পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, আসন্ন দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের উদারপন্থী ও প্রগতিশীল হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা জোরদার করবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন কার্যক্রমকে নিজেদের উদারতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ক্ষমতার দৌড়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আগামী এক-দুই বছরে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অবস্থান থেকে আরও বেশি সরে যাবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরিশেষে তিনি প্রকাশ্যে আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হলেও একান্তভাবে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার পরামর্শ দেন।