সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং পাহাড়ি ভূমিধসে বিপর্যস্ত এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পর্যটক ও পর্বতারোহীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। স্থানীয় সময় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এক জরুরি সতর্কবার্তার মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
পিসাং, চামে, মানাং এবং এর সংলগ্ন পর্যটন অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট ভূমিধসের পাশাপাশি তুষারপাতের কারণে বহু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সাথে দুর্গম পার্বত্য ভূপ্রকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
ভূমিধসের ফলে সড়কপথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং নিকটবর্তী ট্র্যাকিং রুটে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পোখারা ও এর আশপাশের অঞ্চলে চলাচলেও সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। মুস্তাং, জমসম এবং অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে গান্দাকি প্রদেশের সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, কারণ যেকোনো সময় পাহাড়ি রাস্তা আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলের মতো পাহাড়ি ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় যেকোনো ধরণের ট্রেকিং, পর্বতারোহণ বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে স্থানীয় আবহাওয়া বার্তা ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে মিশন। ভ্রমণকারীদের সার্বক্ষণিক নেপাল সরকার ও দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। কাঠমান্ডুর দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এরই মধ্যে নেপালের মানাং জেলার নার ফু এলাকার সাত হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমালে তুষারধসের কারণে অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে না পারায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন