মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আগাম আলু চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ফুলবাড়ীর কৃষকদের

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

আগাম আলু চাষে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ফুলবাড়ীর কৃষকদের

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আমন ও স্বল্পমেয়াদি আউশ ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু চাষ। মৌসুমের একদম শুরুতে বাজারে নতুন আলুর বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। গত মৌসুমের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ভোর থেকেই চলছে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও বীজ রোপণের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন পুরোদমে চলছে চারা রোপণ ও কৃষিশ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ী উপজেলায় সর্বমোট এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর। এই আগাম আবাদ থেকে মোট ১৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। মাঠে মাঠে কৃষকরা এখন স্টারিক ও রোমানাসহ উচ্চফলনশীল বিভিন্ন আগাম জাতের আলু রোপণ করছেন।

মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম আলু উৎপাদনে শুরুতেই বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ করতে হয়। জমি ইজারা নেওয়া, ভালো মানের বীজ সংগ্রহ, সার, কীটনাশক ও জমি চাষের খরচ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, নিজের আবাদি জমি না থাকায় তিনি দুই বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। জমির ভাড়ার সঙ্গে বীজ, সার ও শ্রমিকের পেছনে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তবে ভালো ফলন পেলে বিনিয়োগ উঠে এসে ভালো মুনাফা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একই ইউনিয়নের কয়রাকোল গ্রামের কৃষক সুকদেব চন্দ্র রায় জানান, গত মৌসুমে আগাম আলু তুলে তিনি পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছিলেন। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিট মুনাফা হওয়ায় সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের আলু লাগিয়েছেন।

তবে সবার অভিজ্ঞতা সমান নয়। খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের আম্রবাড়ি গ্রামের কৃষক সাগর চন্দ্র জানান, বিগত দুই বছর আলু আবাদ করে তিনি ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়েছেন। সেই পুরোনো আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই তিনি এবার ফের আগাম আলুর আবাদ করেছেন। কৃষকদের মতে, আগাম আবাদের ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও বাজারদরই প্রধান ঝুঁকি। শেষ সময়ে অতিবৃষ্টি কিংবা রোগবালাই দেখা দিলে অথবা বাজারে হঠাৎ দাম কমে গেলে বিনিয়োগকৃত আসল তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে।

আলুর আবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামীণ শ্রমবাজারেও ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ফুলবাড়ীর বিভিন্ন মাঠে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, সারা দেশের মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলাতেই সবচেয়ে আগে আলুর চাষ ও উত্তোলন শুরু হয়। ফলে এখানকার উৎপাদিত আলু মৌসুমের শুরুতেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পৌঁছে যায় এবং কৃষকেরা বাড়তি দর পান। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।