সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয় বরং উড্ডয়নপথ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত সম্পূর্ণ কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা। মঙ্গলবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
ফ্লাইট জটিলতা রাজনৈতিক নয়, কারিগরি। বিবৃতিতে হাইকমিশন জানায়, কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনা ও আকাশসীমা ব্যবহারের সব আবেদন পাকিস্তানের প্রচলিত রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করে পর্যালোচনা করা হয়। রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলোর বিষয়ে তারা উল্লেখ করে, বিষয়টি মূলত ফ্লাইটের আকাশপথ ও উড্ডয়ন অনুমতির কারিগরি ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি জড়িত।
এই ধরনের বিশেষ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান চলাচল ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যার ফলে অনেক সময় পূর্বনির্ধারিত উড্ডয়ন সূচিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন বা বিলম্ব ঘটতে পারে। বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তান। হাইকমিশন আরও জানায়, পুরো ঘটনাটিকে সঠিক কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকেই মূল্যায়ন করা উচিত এবং এমন কোনো অতিরঞ্জিত বয়ানকে গুরুত্ব দেওয়া সমীচীন হবে না, যা দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য রাশিয়ার ইউরেনিয়াম নিয়ে বিশেষ ফ্লাইটটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নপথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না মেলায় নির্ধারিত দিনে বিমানটি ঢাকায় আসতে পারেনি। সেই সময় পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের অনুমতি না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ঢাকা জানতে পারেনি।
একাধিক দেশের আকাশপথ ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটটি স্থগিত করতে বাধ্য হন রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তবে প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম নিশ্চিত করেছে, আগামী অক্টোবর থেকে পুনরায় ইউরেনিয়াম পরিবহন শুরু হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পের নির্ধারিত সব চালান সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন