সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া সমঝোতা প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার পরও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যেও এই দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ নতুন করে সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আশার আলো দেখাচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন শান্তি প্রস্তাব পেশ করার পর এবারের আলোচনা আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক ও কার্যকর হবে। ইরানের রাজধানী থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে অতীতে পরিচালিত আলোচনাগুলোতে অনেক দীর্ঘ সময় লেগেছিল। তবে নতুন শান্তি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে জমা দেওয়ার পর সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবারকার প্রক্রিয়ায় সময় কম লাগবে এবং অতীতের তুলনায় আলোচনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে। তেহরান বর্তমানে এই প্রস্তাবের ওপর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও আলোচনা সচল রাখায় তেহরানের কূটনৈতিক নমনীয়তার ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অবরোধ অবসানে ইরান হয়তো সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নমনীয় হতে প্রস্তুত, অথবা অন্তত আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখতে আগ্রহী। তবে কূটনীতির ওপর জোর দিলেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার অবস্থান থেকে পিছিয়ে যায়নি ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে তারা মোটেই বিচলিত নয়। যেকোনো ধরনের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশকে সামরিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন