মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেল বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

তেল বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

ইরান নিজেরা তেল বিক্রি করতে না পারলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশকেই তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাগের গালিবাফ। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। একই সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো জ্বালানি অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিরাপত্তা ছাড়া জ্বালানি প্রবাহ অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কড়া অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আগে ওয়াশিংটনের সামনে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চলমান বৈরী পরিস্থিতির জেরে তাদের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। 

বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের সরাসরি পাহারায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্যান্য দেশের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা না তুললে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলো বড় ধরনের সামরিক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেন ইরানি স্পিকার। ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানি স্থাপনায় কোনো ধরনের আঘাত এলে পাল্টা পদক্ষেপে উপসাগরে থাকা মার্কিন জ্বালানি সম্পদও লক্ষ্যবস্তু হবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল পুরোপুরি সচল করতে তেহরানের দেওয়া সাত দিনের সময়সীমা ও সমঝোতার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোকে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তেহরানের মূল দাবির মধ্যে ছিল বিদেশে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল ছাড় করা, তেল বিক্রির ওপর আরোপিত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি বন্ধ করা। এই শর্তগুলো মানা হলে তবেই প্রণালিটি অবাধ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল দেশটি।

সংকট সমাধানে এখনও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের মনোভাব ও নতুন কিছু বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।