সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০১:২১ পিএম
চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কিংবা দেশটির জব্দ করা রাষ্ট্রীয় তহবিল ছাড়ের কোনো প্রস্তাব দেওয়ার তথ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সোমবার তিনি এই দাবি করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ট্রাম্প জানান যে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া সংক্রান্ত খবরটি একেবারেই সত্য নয়।
তিনি কোনো ধরনের প্রস্তাব দেননি দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন এবং সংবাদমাধ্যমটিকে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করার জোর আহ্বান জানান। এর আগে ওই মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে দাবি করা হয়েছিল যে তেহরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নিলে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও তহবিল ছাড় করতে প্রস্তুত রয়েছে। এমন উত্তেজনার মধ্যেই নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগ হয়েছিল। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের আর কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের কর্মসূচি আপাতত নির্ধারিত নেই। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক সংলাপ নতুন করে শুরু হতে পারে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে।
এই অচলাবস্থার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে আশঙ্কাজনক হারে ট্রাম্পের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচনে কংগ্রেসে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর তীব্র আশঙ্কায় রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন