সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও ইয়েমেন সংলগ্ন অঞ্চলে ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্প্রতি প্রচারিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই দাবি করা হয়েছে। বার্তায় জানানো হয়, ইরানি সামরিক শক্তির জোরালো ও তীব্র প্রত্যাঘাতের মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাবাহার বন্দর এবং ওমান উপসাগরের আগের অবরোধ অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আরব সাগরের কেন্দ্রের দিকে চলে গেছে।
প্রণালী রক্ষাকারীদের প্রতিরোধের মুখে মার্কিন বাহিনী আর সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে না।
বার্তায় আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে অচিরেই পুরো আরব সাগর এলাকাকেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতিমুক্ত করা হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমের বরাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়ে অন্তত আটজন মার্কিন মেরিন সেনা ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্ট এবং মাথায় আঘাতজনিত মারাত্মক ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো ঘোষণা ছাড়াই আহতদের তালিকায় নতুন করে ২৯ জন নৌসেনা ও আটজন মেরিন সেনার নাম যুক্ত করেছে।
এই সংযোজনের ফলে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মোট মার্কিন সেনার সংখ্যা পৌঁছেছে ৮৬১ জনে, যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন সেনার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দপ্তর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করলেও মেরিন সেনাদের বহনকারী যুদ্ধজাহাজে সরাসরি আঘাতের ঘটনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছে।
দক্ষিণ ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ওয়াশিংটন তাদের নৌ-অবরোধ বহাল রেখেছে এবং প্রণালীটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোই বর্তমানে তেহরানের মূল সামরিক কৌশলে পরিণত হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইয়ান রালবির মতে, দুর্বল কোনো শক্তির পক্ষে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য বাজার ও পরাশক্তির শক্তিশালী নৌবহরকে কাঁপিয়ে দেওয়ার এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে শুরু না হলেও নিজেদের আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে তেহরানের এই চোরাগোপ্তা সামুদ্রিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথকে দীর্ঘমেয়াদে চরম সামরিক অস্থিরতার মুখে ফেলেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন