অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
উদ্বেগজনক আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুদৃঢ়করণ এবং কৌশলগত আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ পণ্যবাহী নৌযান চলাচল নিশ্চিতের লক্ষ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরীতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন সাত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশেষ বহুপাক্ষিক সম্মেলনে ইরান, ইয়েমেন ও ইউক্রেনের চলমান সামরিক সংঘাতসহ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তুরস্কের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই কূটনৈতিক উদ্যোগের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের আমন্ত্রণে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতি, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান এবং ইউরোপের তিন প্রভাবশালী পরাশক্তি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
আঙ্কারার বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতায় এই প্রথমবার এমন কৌশলগত জোটের সাত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে একই টেবিলে বসছেন।
তুর্কি কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য মতে, ইরান, ইয়েমেন ও ইউক্রেনকে ঘিরে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক সমুদ্র নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করায় আঙ্কারা এই জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি, ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাতময় ঘটনাবলি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রাধান্য পাবে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশীদারত্ব ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেবেন হাকান ফিদান। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল রুট হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবিটি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবেন তিনি।
এ ছাড়া তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় তুরস্কের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন ফিদান।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব যাতে কোনোভাবেই কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আঙ্কারার গৃহীত ধারাবাহিক উদ্যোগ ও ভারসাম্যমূলক ভূমিকার কথাও সম্মেলনে তুলে ধরবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন