অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
আমরা দিনের ভোট রাতে করতে চাই না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না এবং জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সম্পূর্ণ অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করতে পারবেন। তবে নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা বা হট্টগোল সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তিনি বিএনপির নেতাকর্মী হলেও কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়ার মোকামতলা এলাকার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবগঠিত স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী মাঠে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, দলীয় সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনিকভাবে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই কঠোর অবস্থান নেবেন। নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ আপসহীন অবস্থানে থাকবে। ফলে কোনো ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টি করলে কেবল দলীয় পরিচয়ের দোহাই দিয়ে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না; কারণ বর্তমান সরকার জাতিকে একটি শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দলের ঘোষিত রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাবলয়ে আনা হবে এবং কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে কৃষক কার্ড। ধর্মীয় অঙ্গনের জন্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। জনগণের সামনে দেওয়া এসব নির্বাচনী অঙ্গীকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর দলীয় নেতাকর্মীরা ফের ভোট চাইতে জনগণের দুয়ারে যাবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হলে গ্রামীণ জনপদে নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের সুফল দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণে তৃণমূলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীলতা পাবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রতারিত করা হয়েছে। বিগত দুর্গাপূজার সময় ঢাকের তালে অংশ নিলেও এবার ভোটের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের আর পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। দলটিকে `মৌসুমি রাজনীতিবিদ` আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ভোটের সময় তাদের নানা প্রতিশ্রুতি ও উপস্থিতি দেখা গেলেও ভোট শেষে মানুষের খোঁজ নেওয়ার সময় থাকে না। একই সঙ্গে লংমার্চের নামে তেল ও গ্যাস খাত নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির কাছে জনগণের ভোটের গুরুত্ব ছিল না বলেই তারা কখনো সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করেনি। তবে জনগণের ভোটের ওপর বিএনপির গভীর আস্থা রয়েছে বিধায় দলের নেতাকর্মীরা বারবার মানুষের কাছে যাবেন, তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনবেন এবং সবসময় পাশে থাকবেন।
সুধী সমাবেশে উপস্থিত গ্রামবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মানিক, সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে প্রতিমন্ত্রী একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে আধুনিক গার্বেজ ভ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন