অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
বন্ধ এবং উৎপাদন কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস এবং এশিয়াটিক কটন মিলস সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান অবকাঠামো, উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে অবস্থিত নো ভিউ গেস্ট হাউসও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্মকর্তারা মিল দুটির বর্তমান অবস্থা, পরিচালনা কার্যক্রম এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় দেশের বস্ত্র ও পাট খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, অব্যবহৃত শিল্পসম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশলগত দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটশিল্পের একটি সুদীর্ঘ গৌরবময় ঐতিহ্য এবং বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে হলে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, কারিগরি জনবল ও উৎপাদন যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প খাতের বিদ্যমান পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো বাস্তবসম্মতভাবে চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশ্ববাজারে এর বিশেষ চাহিদা ও গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের বস্ত্র ও টেক্সটাইল খাত জাতীয় শিল্পায়ন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এই দুটি প্রধান খাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে দেশীয় শিল্পের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার উপযোগী টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
শরীফুল আলম বলেন, রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে শিল্প খাতের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পসম্পদের যথাযথ সুরক্ষা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সারাদেশে সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট করপোরেশন এবং কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রেখে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ কবির উদ্দিন সিকদার এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও উভয় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন