শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

জুমাবারে ফজরের নামাজে রাসুলুল্লাহর তিলাওয়াত করা বিশেষ দুই সুরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

জুমাবারে ফজরের নামাজে রাসুলুল্লাহর তিলাওয়াত করা বিশেষ দুই সুরা

ছবি: Ai

ইসলামে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের মধ্যে জুমাবারকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এই বরকতময় দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ‍‍`জুমা‍‍` নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সুরা জুমার নয় নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বর্জন করো, এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জুমার দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে গণ্য।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিমের এক হাজার ৮৫০ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। এই দিনে আদি মানব আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং একই দিনে তাঁকে সেখান থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি মহাপ্রলয় বা কেয়ামতও সংঘটিত হবে এই পবিত্র জুমার দিনেই।

মর্যাদাপূর্ণ এই দিনে উত্তমরূপে গোসল করা, মিসওয়াক করা, আতর বা সুগন্ধি মেখে মার্জিত পোশাক পরিধান করে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হযরত সালমান ফারসী (রা.) সূত্রে বর্ণিত সহিহ বুখারির ৮৬৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তেল অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, মসজিদে উপস্থিত দুই মুসল্লির মাঝে ফাঁক না করে নিজের নির্ধারিত সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখে, তার ওই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জুমার দিনে নবীজির ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ শরিফ পাঠ করা, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা, সকাল সকাল মসজিদে উপস্থিত হওয়া এবং বিশেষ মুহূর্তে দোয়া কবুলের আশায় প্রার্থনায় রত থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতপূর্ণ আমলের বর্ণনা রয়েছে।

সাধারণ এসব আমলের পাশাপাশি জুমার দিনের একটি বিশেষ সুন্নতি আমল হলো ফজরের ফরজ নামাজে নির্দিষ্ট দুটি সুরার তিলাওয়াত।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত সুনান আবু দাউদের এক হাজার ৭৪ নম্বর হাদিসে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন ফজরের নামাজে নিয়মিতভাবে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন।