অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আজ বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে প্রতিটি মণ্ডপ ও উপাসনালয়ে দশমীর বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সনাতন শাস্ত্রের বিশ্বাস অনুসারে, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন দেবী দুর্গা এবং আজ তিনি বিদায় নিচ্ছেন নৌকায় চড়ে। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটছে ভক্তদের কয়েকদিনের আনন্দযজ্ঞের।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি আর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে উদযাপিত হয় মহানবমী। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু করে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরসহ দেশের প্রতিটি মণ্ডপে দেবীর নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। ফুল, বেলপাতা আর অঞ্জলি নিবেদনের পাশাপাশি ভক্তদের মনে বিষাদের সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি দেন এবং পুরোনো মন্দিরে হোমযজ্ঞ ও বলিদানের পর্ব শেষ হয়। পূজা অর্চনা শেষে মন্দির চত্বরে আয়োজিত মেলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি উৎসবের আবহ তৈরি করে। গৃহসজ্জার সামগ্রী, কাচের চুড়ি ও খেলনার দোকানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের মঙ্গল কামনা, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন আগতরা।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমীর আয়োজনে ছিল বিশেষ গুরুত্ব। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়, যার পরপরই ষোড়শ উপচারে শুরু হয় বিহিত পূজা। ভক্তরা দিনভর উপবাস থেকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নবমীর মহাপূজা চলার পর দুপুর ১২টার মধ্যেই সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। অঞ্জলি ও ভোগ নিবেদন শেষে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি ও ধুনুচি নাচ। ঢাক আর কাঁসার সম্মিলিত বাদ্যে মেতে ওঠেন তরুণ-প্রবীণ দর্শনার্থীরা।
সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত চন্দন চক্রবর্তী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে জানান, শাস্ত্রীয় বিধান ও কল্প অনুসারে হোমযজ্ঞ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই পূজার মূল পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরতি সম্পন্ন হয় এবং আজ বুধবার দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমীর ইতি টানা হচ্ছে।
দুপুরের পর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের প্রতিমা নিয়ে আয়োজকরা ঢাকার ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে নদীজলে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার সব আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটবে।
চলতি বছর তিথির কারণে দুর্গাপূজার সময়সূচিতে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। সপ্তমী তিথি দুই দিন বিস্তৃত থাকায় গত রবিবার ও সোমবার সপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। একই সঙ্গে সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। নবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন কেবলই বিসর্জনের প্রহর। আনন্দ আর মিলনের আবহ ছাপিয়ে ভক্ত হৃদয়ে এখন দেবীকে বিদায় জানানোর গভীর নীরবতা নেমে এসেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন