অক্টোবর ২, ২০২৫, ১১:১৫ পিএম
দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার বিসর্জনের দিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যেন এক ভিন্ন মানবিকতার মঞ্চ তৈরি করলো। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) পড়ন্ত বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টের বিশাল বালুচরে লাখো মানুষের ভিড়ে একদল তরুণ-তরুণী জানিয়ে দিলেন—স্বাধীনতা ও আহার বিপন্ন ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর পাশে আমরাও আছি।
এমনকি, যখন বাংলাদেশি নাগরিক শহীদুল আলম বিশ্ব বিবেকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুমুদ ফ্লোটিলায় জীবনবাজি রেখে যাত্রা করছেন, ঠিক সে সময় কক্সবাজার সৈকত পরিণত হলো মানবিকতার এক চিলতে প্যালেস্টাইনে।বিজয়ার আনন্দে মেতে ওঠা মানুষের ঢেউয়ের মাঝেই একদল তরুণ-তরুণী হাতে বিভিন্ন বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে স্পষ্ট লেখা ছিল— ‘বিজয়ার শুভেচ্ছা, ফ্রি প্যালেস্টাইন।’
তাদের একজন, অতসী দে, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণ জানালেন। তিনি বলেন, "বিজয়ার শুভেচ্ছার পাশাপাশি আমরা চাই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। ফিলিস্তিনের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে, নিরাপদে বাঁচতে পারে—এই বার্তাই আমরা দিতে এসেছি।"তাঁর সাথেই ছিলেন সংবাদকর্মী আবদু রশিদ মানিক। তিনি বলেন, "এই বিজয়ার আনন্দে আমরা ধর্ম-বর্ণ ভুলে একত্রিত হয়েছি।
আজ এখানে শুধু মানবতার জয়গান ধ্বনিত হচ্ছে। এই উৎসবকে আমরা ফিলিস্তিনের মুক্তির প্রার্থনার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি।"এই মানবিক বার্তার প্রতিধ্বনি শুধু বালুচরেই নয়, শোনা গেল বিসর্জনের মুহূর্তে প্রধান মঞ্চেও। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অরুপ শর্মা বলেন, "আজ আমরা দেবী দুর্গার বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু মানবতার সংগ্রাম তো কখনও শেষ হয় না। এই মুহূর্তে আমরা ফিলিস্তিনের মানুষের শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য একসঙ্গে প্রার্থনা করছি।"
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, আজ প্রতিমা বিসর্জনের দিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিশাল বালিয়াড়ি সব ধর্মের মানুষে ভরে গেছে—এটাই সম্প্রীতি, এটিই উৎসব, এটিই আন্তঃধর্মীয় সৌন্দর্য। তারা মনে করেন, এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ কক্সবাজারের সম্প্রীতির বহমান মেলবন্ধনকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন