রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৭:১০ পিএম

কক্সবাজার সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন

ছবি - সংগৃহীত

সবার আন্তরিক অংশগ্রহণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। চারদিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) মেঘাচ্ছন্ন বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান।বাদ্য বাজনার তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গতিনাশিনী দুর্গাকে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় জানান।

এবারের উৎসবের সবচেয়ে বড় দিক ছিল সম্প্রীতি। পূজা পালনে প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় কক্সবাজারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে।কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু এবং অন্যান্য বক্তারা বলেন, কক্সবাজার হচ্ছে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থ কেন্দ্র।

আজ প্রতিমা বিসর্জনের দিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিশাল বালিয়াড়ি সব ধর্মের মানুষে ভরে গেছে—এটিই সম্প্রীতি, এটিই আন্তঃধর্মীয় সৌন্দর্য।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন শাহীন, বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্যরা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মা দুর্গা এবার হাতি (গজ) বাহনে আগমন করেছেন, যার অর্থ সমৃদ্ধি ও শান্তির বার্তা। তবে এর সঙ্গে বন্যা-জলবিপদেরও আশঙ্কা থাকে। পরে বিদায়ের সময় দেবী দুর্গা দোলায় গেছেন। এর মানে রোগ-শোক থেকে মুক্তি, কল্যাণ এবং প্রশান্তির প্রতীক।কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানায়, এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৩১৭টি মণ্ডপে দেবী দুর্গা পূজিত হন।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩১টি, চকরিয়াতে ৬৯টি ও কুতুবদিয়ায় ৪৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর এহতেশামুল হক নিশ্চিত করেন, প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি ছিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি করায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা নেতা দোলন ধর বলেন, এবার আগের চেয়ে দ্বিগুণ উৎসাহ উদ্দীপনায় দুর্গোৎসব পালিত হয়েছে।

সবশেষে বিষাদের সুর জাগিয়ে উত্তাল সাগরে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে আনা দেবী দুর্গাদের বিসর্জন দেওয়া হয়।