বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

ভাড়াটের সব অপকর্মের দায় বাড়িওয়ালার নয়: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

ভাড়াটের সব অপকর্মের দায় বাড়িওয়ালার নয়: অতিরিক্ত ডিআইজি জহির

বাড়িওয়ালার পক্ষে প্রতিটি ভাড়াটিয়ার সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা সম্ভব নয় এবং চুক্তি ভেঙে কেউ অন্যায় করলে তার দায় সরাসরি বাড়ির মালিকের ওপর বর্তায় না বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহির। রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৮৪ জন তরুণ-তরুণীকে আটকের ঘটনার পর তিনি এই ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

ঘটনার পরপরই এই পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ সদরদপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিশিয়াল প্রশাসনিক আদেশে তাঁকে অবিলম্বে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল জহির জানান, তিনি মূলত বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত স্থান ভাড়া দিয়েছিলেন, কোনো প্রকার বেআইনি কাজের জন্য কাউকে ভবন বরাদ্দ দেননি। বিদ্যমান চুক্তির শর্তাবলি অনুসারে পরিচালনা ব্যয় এবং কো-হোস্টদের ৩০ শতাংশ হিস্যা বাদ দেওয়ার পর প্রাপ্ত অর্থের বাকি ৭০ শতাংশ তিনি বাড়িভাড়া বাবদ গ্রহণ করতেন। তিনি বলেন, ভাড়াটেকে স্পষ্ট নিয়মকানুন জানিয়ে দেওয়ার পরও যদি কেউ সেখানে গোপনে অবৈধ কিছু পরিচালনা করে, তবে তার দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকের ঘাড়ে চাপানো সমীচীন নয়।

একই সাথে তিনি বিকৃত সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করেন, সঠিক সত্যতা যাচাই না করে এমন স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম এবং উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ‘এয়ারবিএনবি’র মাধ্যমে ওই বহুতল ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। তাঁদের দাবি, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন এবং অননুমোদিত ডিজে পার্টির আসর বসানো হচ্ছিল।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণ-তরুণীরা ওই ভবনে আয়োজিত পার্টিতে এসে অংশ নিতেন। এ ধরনের আয়োজন থেকে সংগৃহীত মোট আর্থিক লভ্যাংশের ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির পেতেন এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ অর্থ তাঁর নিযুক্ত কো-হোস্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ভাগ করে নিতেন।