বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

কৃষক কার্ড পাবেন দেশের ৪০ লাখ কৃষক ও মিলবে ১০ সুবিধা বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

কৃষক কার্ড পাবেন দেশের ৪০ লাখ কৃষক ও মিলবে ১০ সুবিধা বললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ৪০ লাখ কৃষককে বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার নীতিগত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার, যার মাধ্যমে কৃষকেরা সরাসরি ১০ ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা লাভ করবেন।  মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষি উৎপাদনকে লাভজনক করা, উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো এবং সার্বিকভাবে প্রান্তিক কৃষকের জীবনযাত্রার মান টেকসইভাবে উন্নত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের সুরক্ষা ছাড়া জাতীয় অগ্রগতি অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই মৌলিক বিশ্বাস থেকেই বর্তমান প্রশাসন কৃষিকে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কৃষকদের নানামুখী সরকারি প্রণোদনা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিশ্চিত সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে নদী সংস্কার ও খাল খনন কর্মসূচি পুরোদমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সেচসংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননকাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই বিশাল প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের দীর্ঘদিনের সেচসংকট কাটবে। বিশেষ করে রাজশাহীসহ বরেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলের যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে, সেখানে পানির সংকট দূর করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলস্তর পুনর্ভরণেও এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই দেশে প্রথম খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই কৃষকের সেচসুবিধা বাড়ানো এবং গ্রামীণ জনপদে পানির সংকট দূর করতে বর্তমান সরকার আবারও পরিকল্পিতভাবে নদী ও খাল খননকাজ শুরু করেছে।

কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা বিদ্যমান ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে আর কষ্ট করে জেলা সদর বা বড় বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না।

উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা শয্যার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

একই সাথে উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য আধুনিক ডায়ালিসিস সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জটিল রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা আরও সুলভ হবে, তবে সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ের বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

রাজশাহীর স্থানীয় চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসারে স্থানীয় নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদ্যমান শয্যাসংখ্যা এক হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার যে জোরালো দাবি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

জনসভা শেষে সন্ধ্যায় রাজশাহী ধর্মসভায় আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি সড়কপথে হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সামরিক বিমানযোগে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।