বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

রংপুর মেডিক্যালে আগুন নিচে নামার হুড়োহুড়িতে আহত ৪০ রোগী ও স্বজন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

রংপুর মেডিক্যালে আগুন নিচে নামার হুড়োহুড়িতে আহত ৪০ রোগী ও স্বজন

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আতঙ্কে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টাকালে অন্তত ৪০ জন রোগী ও তাদের স্বজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ছয়টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থিত বিদ্যুতের নিয়ন্ত্রণকক্ষের প্রশাসনিক শাখার পাশের একটি সুইচ বোর্ডে এই আগুন লাগে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘটনার পর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পুরো হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন ছিল।

বিকেল চারটা পর্যন্ত হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েন ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সিঁড়িতে তৈরি হয় তীব্র বিশৃঙ্খলা।

রোগী, হাসপাতাল প্রশাসন এবং অগ্নিনির্বাপক বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নিচতলায় আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভবনজুড়ে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। পাঁচতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও স্বজনেরা একযোগে নিচে নামার জন্য ছুটতে শুরু করেন। এ সময় সংকীর্ণ সিঁড়িতে অতিরিক্ত ভিড়, ধাক্কাধাক্কি ও পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আঘাত পান।

দোতলার কিডনি রোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন সফিউল আলমকে কোলে তুলে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে আহত হন। এতে সফিউল আলম নিজেও নতুন করে চোট পান। ওই ওয়ার্ডেরই অন্তত ১৫ জন রোগী দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

একই ধরনের বিপত্তি ঘটে তিনতলার প্রসূতি রোগ বিভাগেও। সেখান থেকে নবজাতকদের কোলে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় কয়েকজন শিশু আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

ওই বিভাগে চিকিৎসাধীন মমতাজ বেগম জানান, পাঁচ দিন আগে তিনি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। আগুন লাগার খবর শুনে নবজাতককে বুকে জড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। জরুরি নির্গমন সিঁড়ি ব্যবহারের সময়ও অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকে আঘাত পেয়েছেন।

সকাল পৌনে সাতটার দিকে আগুন নিভে গেলেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর কয়েকটি ওয়ার্ডে বিকল্প উপায়ে আংশিক লাইন চালু করা হলেও কিডনি রোগ, হৃদরোগ, প্রসূতি ও কিডনি ডায়ালাইসিসসহ জরুরি বিভাগগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত থাকে।

বিকেল চারটা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর, হৃদরোগ বিভাগ, রোগতত্ত্ব বিভাগ, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও কিডনি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় পূর্বনির্ধারিত জরুরি অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মোহা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবকটি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বহাল করার কাজ চলমান রয়েছে।