বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

লাউ বিক্রি হচ্ছে ১ টাকায় ৪ টি ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষকরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

লাউ বিক্রি হচ্ছে ১ টাকায় ৪ টি ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষকরা

উত্তরাঞ্চলের জেলা পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজি লাউয়ের দামে নজিরবিহীন দরপতন দেখা দিয়েছে। পাইকারি মোকামগুলোতে এক টাকায় চারটি কিংবা চার টাকায় একটি হিসেবেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মিলছে না। উৎপাদন খরচ, মাচা তৈরির বাঁশের ব্যয় এবং দিনমজুরের দৈনিক মজুরি না ওঠায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাঠেই নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার লাউ।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় বাম্পার ফলন ও ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ফলে মোকামগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে পাইকারি হাটে একেকটি লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র এক থেকে দুই টাকায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চার বা পাঁচটি লাউয়ের দাম চাওয়া হচ্ছে মাত্র এক টাকা। তাও আবার নগদ টাকা না দিয়ে বাকিতে কেনার প্রস্তাব দিচ্ছেন পাইকাররা।

রাজধানীর বাজারের সঙ্গে এই প্রান্তিক মূল্যের তীব্র বৈষম্য তুলে ধরে এক চাষি জানান, ঢাকায় এক প্লেট লাউয়ের রান্না তরকারি কিনতে যেখানে সাধারণ মানুষকে ৪০ টাকা গুনতে হয়, সেখানে তাদের মাঠপর্যায়ে একেকটি আস্ত লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ২৫ পয়সা থেকে এক টাকায়।

উৎপাদন খরচের হিসাব তুলে ধরে চাষিরা জানান, বাঁশ ও সুতলি দিয়ে মাচা তৈরি এবং কীটনাশক ও সারের পেছনে একেকটি জমিতে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। বিপরীতে পুরো ক্ষেতের লাউ বিক্রি করে মিলছে মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এমনকি স্থানীয় বাজারে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি যেখানে ৫০০ টাকা, সেখানে সারাদিন লাউ তুলে বিক্রি করেও সেই মজুরির টাকা উঠছে না। লোকসানের মুখে পড়ে অনেকে বাধ্য হয়ে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে ক্ষেতের পরিচর্যা ছেড়ে দিয়েছেন এবং গাছ কেটে ফেলছেন।

পাইকার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণাগার না থাকায় দ্রুত পচনশীল এই পণ্যটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পঞ্চগড়ে একটি ডেডিকেটেড সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা থাকলে সংকটকালীন সময়ে পণ্য মজুদ রেখে পরবর্তীতে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা যেত বলে দাবি জানিয়েছেন তারা। বিকল্প সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এবং দূরবর্তী মোকামে পাঠানোর পরিবহন খরচ না ওঠায় মাঠেই ফেলে রাখতে হচ্ছে উৎপাদিত শত শত লাউ।