সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গণপরিবহনের পরিচালন ব্যয় সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে সিঙ্গাপুর। আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে বাস ও ট্রেনের মতো গণপরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের গণপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কাউন্সিল (পিটিসি) ২৯ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এই ভাড়ার নতুন সমন্বয় ঘোষণা করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, তাদের ভাড়ার কাঠামোর নিয়মানুযায়ী সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ ছিল, তবে সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তা সীমিত করে ৭ শতাংশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভাড়া বৃদ্ধির নতুন এই সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের কার্ডভিত্তিক পরিশোধের ক্ষেত্রে দূরত্বভেদে প্রতি ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৩ সেন্ট পর্যন্ত খরচ বাড়বে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় অতিরিক্ত ১২ সেন্ট দিতে হবে এবং তার চেয়ে বেশি দূরত্বের যাত্রায় বাড়তি গুনতে হবে ১৩ সেন্ট। অন্যদিকে প্রবীণ নাগরিক, শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কার্ডভিত্তিক ভাড়ায় বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে মাত্র ৫ সেন্ট। তবে যেসব যাত্রী কার্ডের পরিবর্তে নগদ অর্থে ভাড়া পরিশোধ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ২০ সেন্ট এবং প্রবীণ নাগরিক, শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বাড়বে ১০ সেন্ট।
নিম্ন আয়ের কর্মজীবী ও বিশেষ সুবিধার আওতাভুক্ত জনগোষ্ঠীর ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে না। ওয়ার্কফেয়ার ট্রান্সপোর্ট কনসেসন স্কিমের আওতায় থাকা সুবিধাপ্রাপ্ত নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১২২ ডলার এবং প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫৫ ডলারের মাসিক ট্রাভেল পাসের পূর্বনির্ধারিত মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কাউন্সিলের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিগত পাঁচ বছর ধরে পরিবহন ব্যবস্থার পরিচালন ও জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়লেও যাত্রীদের সামর্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তাদের হিসাবের মূল সূত্র অনুযায়ী যে পরিমাণ ব্যয় বেড়েছে, তার পুরো আর্থিক বোঝা সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো হয়নি, বরং পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যেই এমন ভারসাম্যপূর্ণ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে কম আয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিশেষ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ভাউচারের মান ৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করেছে।
সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহায়তা নিশ্চিত করতে যোগ্যতার পারিবারিক মাথাপিছু মাসিক আয়ের সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে মাথাপিছু আয়ের সীমা এক হাজার ৮০০ ডলার থাকলেও তা শিথিল করে দুই হাজার ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়ের এই মানদণ্ড শিথিল করার কারণে নতুন করে আরও প্রায় ৬০ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবার সরাসরি পরিবহন ভাউচারের আর্থিক সহায়তার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন