সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দূরশিক্ষণ পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের সমতলের সমতুল্য সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত আগস্ট মাসের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন স্কিম ও প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সরকারি অনুদান ও প্রকল্প সাহায্য মিলিয়ে মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। শিক্ষা খাতে পাহাড়কে কোনো অবস্থাতেই পিছিয়ে রাখা যাবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী ভাবনার আলোকে পার্বত্য অঞ্চলের শ্রেণিকক্ষে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ই-লার্নিং চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষার আধুনিকায়নে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অর্জনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে একদিন দুর্গম পাহাড়ের ছেলেমেয়েরাও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে অবদান রাখবে। শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানি সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, যুগের পর যুগ ধরে পাহাড়ি নারীরা পাহাড়ি খাঁদ ও ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহের জন্য অবর্ণনীয় শারীরিক কষ্ট ভোগ করে আসছেন। দ্রুত পাইপলাইন ও টেকসই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সুপেয় পানি পৌঁছে দিয়ে এই দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করতে হবে। একই সাথে বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য বাড়াতে হবে এবং আধুনিক টেকসই পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দুর্গম পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূমিধস রোধে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
তিনি জানান, গ্রিড সুবিধার বাইরে থাকা দুর্গম জনপদে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমতার বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে রাজধানী ঢাকার একজন শিক্ষার্থী আর বান্দরবান, রাঙামাটি বা খাগড়াছড়ির দুর্গম প্রান্তের কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সুযোগের কোনো বৈষম্য থাকবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটিয়ে পাহাড়ের তরুণরা আগামী দিনে ডাক্তার, প্রকৌশলী, গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।
বৈঠকে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান যুগ্মসচিব শেখ ছালেহ আহাম্মদ।
উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যা চিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা সা হোয়াই মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মং, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ইলিয়াস মেহেদীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন