মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি

মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দরকার নেই: দাবি আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দরকার নেই: দাবি আইআরজিসির

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বহাল রাখার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কার্যকর ক্ষেত্র তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে দেওয়া সরাসরি বক্তব্যে এই অবস্থান তুলে ধরেন আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি।

তিনি উল্লেখ করেন যে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সম্পর্কে সাধারণ আমেরিকানদের সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে দুই দেশের নাগরিকদের মাঝে উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন তেহরান যেমন মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সংলাপে বসতে প্রস্তুত, তেমনি তারাও চাইলে ইরানের সাথে সার্বিক যোগাযোগ করতে পারেন। সামরিক শক্তির তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক বাজেট মার্কিন সামরিক বাহিনীর মোট বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ।

ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোহেবি অভিযোগ করেন মার্কিন শাসকেরা নিজেদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারের কথা চিন্তা করেন না। বর্তমানে দেশটির ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার সংক্রান্ত পশ্চিমা প্রচারণাকে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং তেহরান নিজস্ব এই শান্তিকামী অবস্থানে এখনও সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শোষণ ঠেকানোর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন মুখপাত্র।

তিনি সাধারণ মার্কিনদের প্রতি তাদের নীতিনির্ধারকদের প্রশ্ন করার আহ্বান জানান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগ তুলে তিনি জানান সাধারণ মার্কিনীরা জানেন না যে তাদের বাহিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, উপাসনালয় এবং গির্জার মতো বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ পরিচালনা করেছে। ওয়াশিংটনের উচিত ছিল সামরিক আগ্রাসনে অপচয় করা মোট তহবিলের অন্তত ১০ শতাংশ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর সাহায্যে বিনিয়োগ করা, যা তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম এনে দিতে পারত। ইরানের ওপর চলমান হামলার মূল উদ্দেশ্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা নয় বলে মনে করে তেহরান।

মোহেবি স্পষ্ট করেন যে পশ্চিমা আধিপত্যের আসল লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নষ্ট করে দেশকে খণ্ডিত করা। তেহরানকে পুনরায় একটি পরাধীন ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত করার দূরভিসন্ধি নিয়ে এই সামরিক তত্পরতা পরিচালিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টরা খুব ভালো করেই জানে যে ইরান কোনো পারমাণবিক সমরাস্ত্র তৈরি করছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন চরম মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযান সামগ্রিকভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের উচিত অনতিবিলম্বে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করা।