মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি: শিক্ষকদের দলাদলি বন্ধের ডাক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি: শিক্ষকদের দলাদলি বন্ধের ডাক

দলাদলি ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে মনোযোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষকতা কোনো সাধারণ জীবিকার পেশা নয়, বরং এটি গভীর আত্মমর্যাদা ও জাতীয় দায়বদ্ধতার স্থান। এই মহান পেশার ন্যূনতম মর্যাদা রক্ষা করতে না পারলে শিক্ষকতার পরিচয় ব্যবহার করে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলবাজি বা অভ্যন্তরীণ বিভাজনে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কড়া বার্তা দেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ঢাকা জেলা পর্যায়ের আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন উপাচার্য। অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের সরাসরি সতর্ক করে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, হয় দলাদলি বন্ধ করতে হবে, নতুবা শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিতে হবে। বিগত ১৭ বছরের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক অগ্রগতি ও সরকারি কার্যক্রম পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, জাতি হিসেবে আর কোনোভাবেই পশ্চাৎপদ থাকা সম্ভব নয়।

শিক্ষকতা পেশার সামাজিক মূল্যবোধ তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থবিত্তের মোহ ত্যাগ করে কেবল আত্মসম্মান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার তাগিদেই মেধাবীরা এই পেশা বেছে নেন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল আয়ের সুযোগ এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ চাকরির বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেবল দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই অনেকে শিক্ষকতায় আত্মনিয়োগ করেন। তাই এই পেশার সম্মান নিজেদের ধরে রাখতে না পারলে শিক্ষকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কোনো অপ্রীতিকর আচরণ করা সমীচীন নয়। উপাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা পেশার মর্যাদা অটুট রাখতে পারবেন না, তাদের উচিত অবিলম্বে শিক্ষকতা ছেড়ে বিকল্প পেশা বা ব্যক্তিগত আয়ের অন্য কোনো পথ বেছে নেওয়া।

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বহুমুখী সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন উপাচার্য।

তিনি জানান, ‍‍`লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস প্রোগ্রাম‍‍`, ‍‍`ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি‍‍`, ‍‍`গ্রিন ক্যাম্পাস‍‍`, কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ চালিত পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা আবশ্যক। শিক্ষকরা আন্তরিক সহযোগিতা না করলে কেবল সরকারের একার পক্ষে কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একক উদ্যোগে এসব জাতীয় লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব।

সরকারি ‍‍`লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস‍‍` কর্মসূচির আওতায় তেজগাঁও কলেজে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা জেলার ২৫টি অধিভুক্ত কলেজের মোট ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং যুক্তিভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরেন। জেলা পর্যায়ের এই ধাপে বিজয়ী তরুণ প্রতিযোগীরা পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং সেখানে নির্বাচিতরা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় লড়াইয়ের সুযোগ পাবেন। অনুষ্ঠানে তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।