সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
জনগণের ভোগান্তি কমাতে জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কার্যকর, যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোরালো সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এই নীতিগত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, মজুত ও সংরক্ষণের প্রকৃত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী সভায় বিশদ তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। সংসদীয় কমিটি এ দিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং এর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিশদভাবে পর্যালোচনা করে। বিভিন্ন সময়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দফায় দফায় মূল্য সমন্বয়ের যৌক্তিকতা, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জ্বালানির দাম রাখার টেকসই কৌশল এবং মূল্য ওঠানামার ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে হঠাৎ জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ নিয়ে বিপিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, সংকটকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও কেবল তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে কীভাবে কৃত্রিম সেই সংকটের অবসান ঘটল। সরবরাহ শৃঙ্খল একই থাকার পরও কেন দাম বাড়িয়ে সংকট দূর করতে হলো, সে বিষয়ে বিপিসির কাছে লিখিত ও সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছে সংসদীয় কমিটি। গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যালোচনা সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন