বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাইমার জাতিসংঘ নিয়োগ সরকারের সম্পৃক্ততা নেই

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

জাইমার জাতিসংঘ নিয়োগ সরকারের সম্পৃক্ততা নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পেশাগত নিয়োগের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা রাষ্ট্রীয় সুযোগ ছাড়াই জাইমা রহমান একান্তই নিজের মেধা ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক এই সংস্থায় পি-৩ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসারে এই পদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতার যে পূর্বশর্ত রয়েছে, তার প্রোফাইলের সঙ্গে তা সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সামগ্রিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাতিসংঘে দায়িত্ব পেয়েছেন জাইমা রহমান। মুখপাত্র বলেন, জাইমা রহমানের এই নিয়োগ তার সম্পূর্ণ নিজস্ব পেশাগত ক্যারিয়ারের অর্জন এবং তিনি একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মেধার স্বাক্ষর রেখে সেখানে নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতে দলীয় ক্ষমতা বা পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিশেষ সুবিধা আদায়ের যে অপসংস্কৃতি ছিল, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নীতিমালায় তার কোনো পুনরাবৃত্তি ঘটেনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফর মূল্যায়ন করে মাহাদী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বনির্ভর ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জাতীয় রূপরেখা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। মাত্র চার দিনের কার্যকর কূটনৈতিক সূচিতে প্রধানমন্ত্রী অন্তত ১১টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এর বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনায় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত অভ্যর্থনা পর্বেও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেটকে ক্ষমতার একমাত্র উৎস বিবেচনা করা একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন, যা সমগ্র বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মুখপাত্র মন্তব্য করেন যে বৈশ্বিক এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, তবে তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পুরো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ও পণ্যের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম এখনো যথেষ্ট কম রয়েছে দাবি করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার এই মূল্যবৃদ্ধি যথাসম্ভব বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে এবং বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।