সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতের সব প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি মানবিক, পরমতসহিষ্ণু ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। দীর্ঘ দেড় দশকের ভয় ও ভীতিকর রাজনৈতিক পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে দেশ এখন গণতান্ত্রিক আলোর পথে অভিযাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সরকারপ্রধানের এই মানবিকতা ও ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা না করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সম্প্রতি সমাপ্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও সার্বিক সফরের ফলাফল তুলে ধরতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রেস সচিব স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো গতানুগতিক আনুষ্ঠানিক সফর ছিল না; বরং ছয় দিনের সফরের মধ্যে যাতায়াতের দুই দিন বাদ দিয়ে বাকি চার দিনে প্রধানমন্ত্রী একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
এসব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশন এবং জ্বালানি সংকটসহ বিশ্ব ও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা জরুরি বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। মানবিকতাকে দুর্বলতা ভেবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা না করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মূল অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন।
একই সাথে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। যে ঐতিহাসিক মঞ্চে একসময় স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীর উদ্দেশে কথা বলেছেন। বিশ্বমঞ্চে তিনি স্পষ্টভাবে মতপ্রকাশ করেন যে, কোনো জাতির পরিবর্তনের পথ মরণাস্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে হতে পারে না; বরং যুক্তিতর্ক, শিক্ষা ও মানবতাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল হাতিয়ার।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি নাগরিককে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে সরকার যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে—বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত রাখা, নারীদের আত্মবিশ্বাসী জীবন নিশ্চিত করা এবং শিশুদের পূর্ণ বিকাশের অনুকূল পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। পুরো সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি প্রতিনিধিরাও জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেন।
সরকারি খরচে ব্যাপক মিতব্যয়িতার কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী জানান, অতীতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে বিশেষ চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে একেকটি আন্তর্জাতিক সফরে ২৯২ জন পর্যন্ত বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে যাওয়ার নজির তৈরি হয়েছিল, যার ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। সেই প্রচলিত ধারায় আমূল পরিবর্তন এনে প্রধানমন্ত্রী এবার মাত্র ৩৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীর মতো যাতায়াত করেছেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে সমাজে এমন এক ভয়ানক আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল যে টেলিভিশন টকশো শেষে আলোচকরাও নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কিত থাকতেন। শত শত মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার পরিচালনায় আসা প্রধানমন্ত্রী এখন জাতিকে একটি শান্তিময় পরিবেশ দিতে কাজ করছেন। এই পরিবর্তনকে দেশের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ আখ্যা দিয়ে তিনি সবাইকে ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন