বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ

তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সার্বিক পণ্য রপ্তানি আয় আট দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য বিদায়ী মাসটিতে মোট ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তবে চলতি বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বৈদেশিক বাণিজ্যে আপাত প্রবৃদ্ধি থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সর্বমোট পণ্য রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে আয় হয়েছিল এক হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসেবে প্রথম তিন মাসে সার্বিক পণ্য রপ্তানিতে ছয় দশমিক ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

জাতীয় রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত থেকে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসেছে এক হাজার ৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল ৯৯৭ কোটি চার লাখ ২০ হাজার ডলার। ফলে প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবে তৈরি পোশাক রপ্তানি ছয় দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এককভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আট দশমিক ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে।

পোশাক খাতের উপ-খাতগুলোর মধ্যে নিটওয়্যার পণ্যে প্রথম তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ছয় দশমিক ৮৮ শতাংশ, যেখান থেকে আয় এসেছে ৫৯৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ওভেন পোশাকে পাঁচ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারে।

তবে সেপ্টেম্বরের এই প্রবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক বা প্রকৃত পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখতে নারাজ খাতের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বরের প্রকৃত রপ্তানি ছিল মাত্র তিন দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার, যা দেশের স্বাভাবিক মাসিক গড় রপ্তানির তুলনায় অনেক কম। মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি অস্বাভাবিক রকমের কম থাকার কারণে কম ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এবার এই তুলনামূলক উচ্চ প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে তিন বিলিয়ন ডলারের এই আয় মাসিক গড়ের তুলনায় প্রায় দশ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে, যা তৈরি পোশাক শিল্পের চলমান গভীর সংকট ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোকেই সামনে নিয়ে আসে।

পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণে কিছু ইতিবাচক লক্ষণ লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইলে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এককভাবে সেপ্টেম্বর মাসেও ওষুধ রপ্তানিতে ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, চামড়ায় ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাটে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইলে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তবে একই সময়ে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি আয় কমেছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তিন মাসে রপ্তানি ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ১৩৭ কোটি দুই লাখ এবং জার্মানিতে ১২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য পাঠানো হয়েছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১ কোটি পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মতে, এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।